সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

আগামী বছর চালু হবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যবসা বাণিজ্য এবং ভারতের এই অঞ্চলের সাথে ভারতের মূল ভ‚-খন্ডে সহজে যাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্য প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের রেলের অবকাঠামো নিয়ে সাফার করছি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভারত এবং বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থা একই ধরনের ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর রেলব্যবস্থা ধ্বংসের পথে চলে যায়। নতুন করে রেললাইন হয়নি, ইঞ্জিন, কোচ, নতুন ট্রেন কোন কিছু হয়নি। ৭৩/৭৪ সালে রেলওয়েতে লোকবল ছিল ৬৮ হাজার। এখন তা ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। এখন লোকবলের অভাবে ১০৪টি ষ্টেশন বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন রেলকে আস্তে আস্তে প্রাইভেটাইজেশনে দেয়ার পক্রিয়া নিয়েছিল। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০১১ সালে আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক যুগোপযুগি যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। পরে তিনি মনিয়ন্দ,খারকুট, আখাউড়া রেলওয়ে ষ্টেশনে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্প পরিচালক শুভাক্ত গীন, টিম লিডার রামন স্রিংলা, ডেপুটি টিম লিডার সঞ্জয় কুমার, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সুন্তুষ শাহু,সহকারী পরিচালক বাসকর বক্সি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইস উদ্দিন, আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আবুল কাশেম ভ‚ঁইয়া, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূরে-এ আলম, ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন শফিক আলেয়া প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৬ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশ অংশে। আর বাকি ৪ কিলোমিটার রেলপথ ভারতের অংশে। রেলপথটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আগরতলার নিশ্চিন্তপূর সীমান্ত পর্যন্ত যাবে। ভারত সরকারের অনুদানের অর্থে নির্মিত হচ্ছে এই রেলপথ।

২০১৮ সালের ২১ মে ভারতের নতুন দিল্লির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ২৪০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০১ টাকা। ভ‚মি অধিগ্রহণসহ সকল জটিলতা কাটিয়ে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ১৮ মাস মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথম দফায় চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ করতে না পারায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। তবে প্রথম দফায় বৃদ্ধিকৃত সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত মার্চ মাসের শেষভাগ থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধের পর গত ১ জুন থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখনও সব শ্রমিক কাজে আসেনি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

পেছনের বিজ্ঞাপন-